প্রতিদিনের মান্না: আশাহীনদের জন্য আশা || সোমবার, ২১শে অগাস্ট ২০২৩
আশাহীনদের জন্য আশা
গীতসংহিতা ১০৭: ৪৩ সদাপ্রভুর বিবিধ দয়া আলোচনা করো। আশাহীনদের জন্য আশা সম্পর্কে বলে গীতরচক ১০৭ গীতের সমাপ্তি করেন। তিনি এই গীতে চারটি শ্রেণীর লোকের বর্ণনা করেছেন যারা ঈশ্বরের প্রেম থেকে উপকৃত হয়:
প্রথম। মরুভূমিতে বিচরণকারী। গীতসংহিতা ১০৭: ৪-৯ দেখবেন।
মরুভূমিতে বসবাসকারী মানুষ ক্ষুধা ও জীবনের হতাশায় ভুগছিল। তাদের আশাহীন অবস্থা পরিবর্তিত হয় যখন তারা সদাপ্রভুর কাছে কান্নাকাটি করে: ৬ এবং ৭ পদে বলে, সঙ্কটে তাহারা সদাপ্রভুর কাছে ক্রন্দন করিল, আর তিনি তাহাদিগকে কষ্ট হইতে উদ্ধার করিলেন। তিনি তাহাদিগকে সরল পথেও গমন করাইলেন, যেন তাহারা বসতি-নগরে যাইতে পারে। মরুভূমিতে মাদক এবং যৌন পাপ যা তাদের আত্মার শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য তারা করতো, সেগুলো তাদের জীবনকে শেষ করে দিচ্ছিলো। ৯ পদে বলে, শুধুমাত্র তিনি আপ্যায়িত করেন আকাঙ্ক্ষী প্রাণকে, তিনি ক্ষুধিত প্রাণকে উত্তম দ্রব্যে তৃপ্ত করেন।
যারা খ্রীষ্টের মধ্যে তাদের ভরণপোষণ খুঁজে পায়, তারা সদাপ্রভুর স্তব করুক, তাঁহার দয়া প্রযুক্ত, মনুষ্য-সন্তানদের জন্য তাঁহার আশ্চর্য্য কর্ম্ম প্রযুক্ত। গীতসংহিতা ১০৭: ৮।
দ্বিতীয়। শ্রমিকরা যারা তিক্ত কাজ করতে বাধ্য। গীতসংহিতা ১০৭: ১০-১৬ দেখবেন।
ঈশ্বরের বাক্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং তাঁর পরামর্শের প্রত্যাখ্যান, মানুষকে আনন্দদায়ক সেবার পরিবর্তে, তিক্ত শ্রমে দণ্ডিত করে। কিন্তু যখন তারা সদাপ্রভুর কাছে কান্নাকাটি করে, তাঁর ভালবাসার কারণে তিনি তাদের বাঁধন থেকে মুক্তি দেন। হিতোপদেশ ১৪: ১২ রাজা সলোমন সতর্ক করেছেন, একটী পথ আছে, যাহা মানুষের দৃষ্টিতে সরল; কিন্তু তাহার পরিমাণ মৃত্যুর পথ। গীতসংহিতা ১০৭: ১৬ কারণ তিনি পিত্তলের কবাট ভগ্ন করিয়াছেন, লৌহময় অর্গল ছেদন করিয়াছেন। ধর্ম, নাস্তিকতা এবং বস্তুবাদ সবই তিক্ত শ্রম, তারা যে আনন্দ ও স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেয় তা কখনই আনতে পারে না। বরং, তারা হৃদয়কে অন্ধকার ও গভীরতম অন্ধকারের দাস করে। যোহন লিখিত সুসমাচার ১০: ১০ যে যীশু এসেছিলেন যেন সবাই জীবন পায় ও উপচয় পায়।
যারা তাঁর বাক্য এবং পরামর্শের কাছে সমর্পণ করেছেন, তারা সদাপ্রভুর স্তব করুক, তাঁহার দয়া প্রযুক্ত, মনুষ্য-সন্তানদের জন্য তাঁহার আশ্চর্য্য কর্ম্ম প্রযুক্ত। গীতসংহিতা ১০৭: ১৫।
তৃতীয়। পরিণতির শিকলে আটকে থাকা বোকারা। গীতসংহিতা ১০৭: ১৭-২২ দেখবেন।
মূর্খ চিন্তা ও কর্মের পরিণতি শীঘ্রই মূর্খদের দরজায় কড়া নাড়বে এবং তাদের জীবনে বাসা বাধবে। মূর্খ আচরণের পরিণতিগুলি একটা মানুষকে শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে। ১৮ পদে বলে, তাহাদের প্রাণ সমস্ত খাদ্য দ্রব্য ঘৃণা করে, তাহারা মৃত্যুদ্বারের সমীপে উপস্থিত হয়। যখন তাদের মূর্খতার কারণে ডুবে যাওয়া লোকেরা প্রভুর কাছে কান্নাকাটি করে, তখন তিনি তাদের যন্ত্রণা নিরাময় করতে এবং তাদের উদ্ধার করার জন্য তাঁর বাক্য পাঠান। তাঁর বাক্য হল হাতুড়ি যা ভাঙে, আগুন যা জ্বালায় এবং দ্বি-ধারী তরবারির চেয়েও ধারালো। তিনি তাঁর প্রজ্ঞা প্রকাশ করেন, মূর্খদের আলোকিত করেন এবং তাদের অনুতাপের দিকে আকৃষ্ট করেন।
মূর্খরা, সদাপ্রভুর স্তব করুক, তাঁহার দয়া প্রযুক্ত, মনুষ্য-সন্তানদের জন্য তাহার আশ্চর্য্য কর্ম্ম প্রযুক্ত। গীতসংহিতা ১০৭: ২১।
চতুর্থ। যারা তাদের বুদ্ধির শেষ দিকে। গীতসংহিতা ১০৭: ২৩-৩২ দেখবেন।
কখনও কখনও যারা প্রভুকে অনুসরণ করে তারা ঝড়ের মধ্য দিয়ে যায় যা তাদের বিশ্বাসকে নাড়া দেয়-যা তাদের সাহসকে গলিয়ে দেয়। তারা সদাপ্রভুর কাছে কান্নাকাটি করে, আর তিনি তাদের কষ্ট থেকে বের করে আনেন। জীবনের ঝড়ের সময় শান্তি ও প্রশান্তি আনার ক্ষমতা একমাত্র প্রভুরই আছে। যারা তাদের বুদ্ধিমত্তার শেষ দিকে তারা, সদাপ্রভুর স্তব করুক, তাঁহার দয়া প্রযুক্ত, মনুষ্য-সন্তানদের জন্য তাঁহার আশ্চর্য্য কর্ম্ম প্রযুক্ত। ৩১ পদ। তাদের জন্য গীতরচক বলছেন, তাহারা প্রজা-সমাজে তাঁহার প্রতিষ্ঠা করুক, প্রাচীনদের সভাতে তাঁহার প্রশংসা করুক। ৩২ পদ। অন্য কথায়, সবাইকে তার অদম্য ভালবাসা এবং তার বিস্ময়কর কাজের কথা বলুন।
যদিও সমস্ত গোষ্ঠী তাদের পরিস্থিতিতে ভিন্ন, তারা যখন ঈশ্বরের কাছে কান্নাকাটি করে তখন তারা সকলেই মুক্তির অভিজ্ঞতা লাভ করে। তারা যেখানে আছে প্রভু তাদের সাথে দেখা করেন এবং তাদের উদ্ধার করেন।
যাদের বুদ্ধি শেষের দিকে তাদের জন্য এই গীতটি বেশ কয়েকটি উৎসাহজনক সত্য প্রদান করে:
১। কোন ব্যক্তি এত দূরে নয় যে ঈশ্বর তাকে উদ্ধার করতে পারেন না।
২। যে নিজেকে বিনীত করবে এবং তাঁর কাছে কান্নাকাটি করবে ঈশ্বর তাকে উদ্ধার করবেন।
৩। ঈশ্বর পরিণতি ব্যবহার করেন, বিদ্রোহী এবং অবাধ্যদের নিজেদের শেষ দেখতে।
যারা খ্রীষ্টকে ভালোবাসে এবং অনুসরণ করে তারা জীবনের ঝড় থেকে মুক্ত নয়। প্রায়শই এই ঝড়ের মধ্যেই তারা তাঁর প্রেমকে আরও বেশি করে অনুভব করে।
দোয়া করে আমাদের ফেইসবুক পেজ ফলো করবেন @ https://www.facebook.com/sodaprobhuamarpalok
Comments
Post a Comment